পারিবারিক সংকট নিরসনে স্বামীদের ভূমিকা।
🌺প্যারেন্টিং টিপস🌺
সম্মানিত অভিভাবক,
আমরা প্রায়ই মনে করি, সন্তানকে ভালোবাসা মানে শুধু তার চাহিদা পূরণ করা। যেমন: ভালো খাবার, সুন্দর পোশাক, ভালো স্কুল ইত্যাদি । কিন্তু আসলে সন্তানরা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা আর মূল্যায়ন অনুভব করে কিছু ছোট ছোট আচরণে।
প্রথমত, যখন সন্তান আমাদের কাছে এসে কিছু বলতে চায়, তখন যদি আমরা একটু সময়ের জন্য হাতের কাজ থামিয়ে দিই, শুধু তার কথা/গল্প শোনার জন্য, তাহলেই সে বুঝে যায়, আমার কথা আমার মা-বাবার কাছে সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বিতীয়ত, সরাসরি তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা শোনা। এটি আপনার মনোযোগের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রকাশ।সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে তার চোখে চোখ রেখে শোনার মধ্যে এক অসাধারণ ভালোবাসার ভাষা আছে। এতে সন্তান বুঝতে পারে, আমার কথা মন দিয়ে শোনা হচ্ছে।
তৃতীয়ত, আপনার সন্তানের কথা শোনার সময় এমনভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করুন, যেন আপনি তার কথা শুনতে খুব আগ্রহী। মুখের হাসি, হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়ানো কিংবা ছোট ছোট উৎসাহব্যঞ্জক শব্দ (যেমন: ওহ, তাই?) এগুলো আপনার আগ্রহ প্রকাশ করে। আমরা যদি আনন্দের সাথে, হাসিমুখে তার গল্প শুনি তাহলেই সে মনে করে, আমার ছোট্ট ছোট্ট আনন্দগুলোও আমার মা-বাবার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
এভাবেই সন্তান বুঝতে পারে, সে সত্যিই মূল্যবান এবং সে সত্যিই মা-বাবার ভালোবাসার মানুষ। যে সন্তান সবসময় এই অনুভূতি পায়, তার জীবন হয় অনেক বেশি সুখী, আত্মবিশ্বাসী এবং মানসিকভাবে সুস্থ ইন শা আল্লাহ ।
♥️পারিবারিক টিপস♥️
সম্মানিত ভাই, আপনারা আপনাদের স্ত্রীর সাথে ভালো ব্যবহার করুন। এক্ষেত্রে আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করুন।
একবার ভাবুন তো, যখন আপনি বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন, তখন হয়তো আরও অনেক পুরুষ তাকে বিয়ে করার জন্য প্রস্তুত ছিল। কিন্তু তিনি অন্য সবার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে কেবল আল্লাহ তা'আলার রহমতে আপনার ওপর ভরসা করে, আপনার বিশ্বাসে ভর করে আপনাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। আপনার প্রতি তার সেই বিশ্বাস যেন কোনো দিন ভেঙে না যায়। আপনি যদি তাকে কষ্ট দেন, তবে সে যেন কখনো মনে না করে “আমার এই সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।”
প্রিয় ভাই, তার পরিবার আপনার হাতে তাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদকে তুলে দিয়েছিল। তারা আপনার প্রতিশ্রুতিতে ভরসা করেছিল। তাই তাদের সেই ভরসাকে মর্যাদা দিন। এমন কিছু করবেন না যাতে তাদের সেই ভরসা নষ্ট হয়। আপনি যদি তাদের সেই আস্থার মূল্য না দেন, তবে আপনি শুধু স্ত্রীকেই নয়, তার পরিবারকেও হতাশ করবেন।
আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে দেখুন, যিনি আমাদের অনুকরণীয় আদর্শ। তিনি স্ত্রীদের সাথে সর্বদা দয়া ও কোমল ব্যবহার করেছেন। কখনো তার কোনো স্ত্রী তার ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ করেননি। তিনি ছিলেন দুনিয়ার সেরা স্বামী। তাই আমাদের উচিত তাঁর আদর্শকে অনুসরণ করা, স্ত্রীদের সাথে শ্রেষ্ঠ আচরণ করা।
রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই উত্তম, যে তার পরিবারের নিকট উত্তম।"
তাই আপনারা সবাই রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরুন। দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করুন এবং সেই অনুযায়ী আপনার স্ত্রীকে সর্বোচ্চ ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও দয়া প্রদর্শন করুন। আপনার স্ত্রীর সাথে আপনার এই সম্পর্ক কেবল ইহকালের নয়, বরং পরকালেরও একটি পবিত্র বন্ধন। এই বন্ধনকে ভালোবাসায় পরিপূর্ণ রাখুন।
আমরা মানুষ। ভুল আমাদের হবেই। আধুনিক জমানায় স্ত্রীদের ভুলে, পারিবারিক চাপে, শয়তানের ধোঁকা, চাকরি, ব্যবসা- বানিজ্য , সম্পদ উপার্জন ইত্যাদির ব্যস্ততায় স্ত্রীদের সাথে হয়তো আমরা ভুল করে বসি। কিন্তু রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুকরণে জানার মাধ্যমে এটা সংশোধন করা সম্ভব।
সম্মানিত ভাইরা রাজি থাকলে, আপনাদের নিয়ে একটা অনলাইন/অফলাইন ওয়েবিনার/সেমিনারের আয়োজন করবো।
বিষয় থাকবে: পারিবারিক সংকট নিরসনে স্বামীদের ভূমিকা।